দশটি জিনিস যা মেয়েরা সবসময় পুরুষদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে

দশটি জিনিস যা মেয়েরা সবসময় পুরুষদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে


পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটা পুরুষই এই একটা প্রশ্নের উত্তর খোঁজে বেড়াচ্ছে। আর সেটা হচ্ছে মেয়েরা আসলে কি চায়? অনন্তকাল থেকে খোঁজে আসা অদ্ভুত এই প্রশ্নের কিছু উত্তর খোঁজার চেষ্টামাত্র।

১। স্বতঃস্ফুর্ততা

স্বতঃস্ফুর্ততা মানে এই নয় যে প্রতিটা ছুটি আপনি ভিন্নভিন্ন দেশে কাটাবেন। তার মানে এই নয় যে গামলা ভর্তি উইস্কি অফার করবেন। ছোটছোট জিনিসে স্বতঃস্ফুর্ততা দেখান। হাতধরে হাটতেছেন হঠাৎ মনে ওকে নিয়ে নাচি অথবা একটা এসএমএস লিখুন যেটা সে আশাই করেনি। মেয়েরা সাধারণত পরবর্তিতে কি হবে এটা আন্দাজ করতে ভালবাসে।

 

২। সিদ্ধান্তে অটল

মেয়েরা যখন না বলে তার মানে এই না যে তাতে তার সম্মতি নেই। হতে পারে সম্মতি আছে অথবা ভাবছি। নাহয় তখন পর্যন্ত তারে জানেই যে আসলে কি চায়। আসলে মাঝেমাঝে মেয়েদের কথা কোন মানে বুঝায় না! তারা এটাই চায় যে পুরুষটি সিদ্ধান্তে অটল থাকবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে এর উত্তরে সম্মতি থাকাটাই একমাত্র পথ।

 

৩। অনুপ্রেরণা

 

যেকোন মেয়েই তার ভালবাসার মানুষটির একনিষ্ট ভক্ত হওয়ার জন্য সবসময় মুখিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মেয়েরাও বিনিময়ে সেই ধরণের আচরণ প্রত্যাশা করে। মেয়েরা যাই করে না কেন পুরুষটির উচিত তাতে আগ্রহ দেখানো। সেটা হতে পারে হলিউডের কোন সিনেমাতে অভিনয় করা, ব্যবসা করা, ম্যারাথনে দৌড়ানো। তার স্বপ্ন পূরনের সম্ভাবনা দ্বিগুন হয়ে যেতে পারে শুধু পুরুষটি একটি কথার কারণে আর সেটা হচ্ছে “তোমার উপরে আমার বিশ্বাস আছে”।

 

৪। একটি ছোট্ট উপহার

আপনি যদি আসলেই মনে করে থাকেন যে মেয়েরা শুধু চায় হীরা, দামী গহনা, দেশ ভ্রমণ তাহলে মস্তিস্ক থেকে ঝেড়ে ফেলুন সেইসব ধারণা। একটি ছোট্ট উপহারই বাড়িইয়ে দিতে পারে আপনার প্রিয় মানুষটি হৃদকম্প। অনেকদিন থেকে হয়তো শুনে আসছেন ছোটবেলা তার এই জিনিসটা ভালা লাগত, একটি পিয়ানোর সখ ছিল, অমুখ লেখকের এই বইটা। আপনি এখন সত্যটা জানেন।

 

৫। রসিকতাবোধ

মেয়েরা সিরিয়াস পুরুষ পছন্দ করে এইটা আসলে কৌতুকের মতোই। এমনকি বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছে যে হাসি হচ্ছে প্রাকৃতিক কামোদ্দিপকগুলোর একটি। সুতরাং মাঝেমাঝে কৌতুক করবেন তবে সাবধান, মনে রাখতে হবে কিছুল জিনিস আছে যেগুলো নিয়ে কখনোই কৌতুক কারা যাবে না যেমনঃ মেয়েদের ড্রেস, চুলের স্টাইল, তাদের পরিবার।

 

৬। মনোযোগ এবং যত্ন

মেয়েদের মন পেতে হলে দরকার নেই তার পিছুপিছু হাঁটার, দরকার নেই তাকে সারাদিন ডাকার, তার সাথে কথা বলার, ১০০০ ম্যাসেজ পাঠানোর কিংবা ১০০ মেইল করার। শুধু দিনশেষে কিছু ছোট প্রশ্ন তাকে বুঝিয়ে দিতে পারে আপনি তাকে কতো ভালবাসেন, খেয়াল রাখেন। এই যেমনঃ দিনটা কেমন কাটল, এখন কেমন লাগছে, সে কি চায়, দিনের কোন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সেটা নিয়ে সে কি ভাবে? এইগুলোই মেয়েদের প্রিয়।

 

৭। ইতিবাচকতা

মনোবিজ্ঞানীরা দাবি করেন পুরুষ এবং মহিলা হচ্ছে দুইটা একই ধরণের পাত্র যা একটি আরেকটির সাথে সংযুক্ত। একটিতে যদি ভাল কিছু জমা হয় তাহলে অপরটির বেলায়ও একই ঘটনা ঘটবে। পুরুষের একটি স্থায়ী ভাল মেজাজ মেয়েদের জন্য খুবই কাংখিত একটি উপহার। প্রায়শই হাসি আর ইতিবাচকতা থাকলে ফল পেতে আপানাকে অপেক্ষা করতে হবে না।

 

৮। সমর্থন/ সাহায্য

অবশ্যই আমাদের সবার এমন সময় পার করতে হয় যখন সবকিছু ছেড়ে দিতে ইচ্ছে হয়, ইচ্ছে হয় সারাদিন বালিশে মুখ গোজে কাঁদতে। বিজ্ঞান বলে মেয়েরা প্রকৃতিগতভাবে ছেলেদের চেয়ে একটু বেশি আবেগপ্রবণ যার কারণে বিষন্নতা, হতাশা এইগুলো তাদের হরহামেশাই ভোগায়। যার ধরুন মেয়েরা এমন কাউকে আশা করে যার কাঁদে মুখ রেখে একটু কাঁদা যায়, যে পিঠ চাপড়ে বলবে সব ঠিক হয়ে যাবে।

 

৯। সততা

প্রত্যেক মেয়েই তার পুরুষটির কাছ থেকে অনেক বেশী সততা আশা করে আর এই বিষয়টার অবমূল্যায়ন করা মোটেই ঠিক নয়। কোন সন্ধায় আপনি যদি আপনার বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে চান তাহলে বলে ফেলুন ভালবাসার মানুষটিকে। আমার অনেক কাজ আছে এই ধরণের ফালতু অজুহাত দিবেন না। মিথ্যাকে কিভাবে সত্য বানাতে মেয়েরা তা ভালভাবেই জানে। সুতরাং সবসময় সত্যটাই বলুন।

 

১০। শ্রদ্ধা

আপনি যদি মনে করে থাকেন যে মেয়েরা হচ্ছে মানবতার দুর্বল অর্ধেক, তাহলে আপনি মেয়েদের সম্পর্কে কিছুই জানেন না। সৌন্দর্য সৃষ্ঠিতে মেয়েরা অনেক এগিয়ে। প্রতিনিয়তই মেয়েরা বিশাল বিশাল সব সুন্দর ধারণা নিয়ে আসছে এবং দুনিয়া কাপাচ্ছে। মেয়েরা তাদের মূল্য বুঝে এবং এজন্যই পুরুষদের কাছ থেকে ঠিক সেরকমই আশা করে।

+ There are no comments

Add yours